Saturday, September 1, 2012

মনকঙ্কণ

ক্লান্ত পৃথিবী
বিষণ্ণ দিন,
ঘুমন্ত কবি
কাব্য বর্ণহীন।

নীলচে আকাশ
ক্রমশ কালো,
ঠাণ্ডা  বাতাস
ঝাপসা আলো।

শূন্য রাস্তা
একলা আমি ,
অস্থির সত্তা
হাসে অন্তর্যামী ।


গোধূলি লগণ
পথের শেষ ,
নিঃস্ব মন
বিবর্ণ অবশেষ ।

Sunday, January 1, 2012

পিতা-পুত্র


ঐ যে উঠিল দিনপতি,
কেউ জানে না খানিকপরে
ঘটাইবে কি মহাপতি।

কেউ জানে না বীর সোহরাবের
আজি হবে শেষ দিন,
পুত্র শোকে কাঁদিবে তাসমিনা
অনন্ত চিরদিন ।

আজ রঞ্জিত হবে পিতার হাত
পুত্রের রক্ত দিয়ে,
কাছে থেকেও বুজবে না সে
থাকবে শুধু চেয়ে।

বীর রুস্তম তখন হাসিয়া বলিবে
হইলো শত্রু শেষ,
ভাবিবে না সে, পিতার হাতে
পুত্র হইলো নিঃশেষ ।

অবশেষে যখন মুমূর্ষু সোহরাব
করিবে কাহিনী বর্ণনা ,
কণ্ঠ্য রুদ্ধ হয়ে যাবে রুস্তমের
দেহ খানা আর চলিবে না।

অন্তর তার আর্তনাদ করিয়া কাঁদিয়া
উঠিবে ভয়ে,
কি নিষ্ঠুর সে চোখের সামনে পুত্রের
মৃত্যু সয়ে।

প্রার্থনা করিবে এ পৃথিবী যেন কখনও
ক্ষমা করে নাক তারে,
বাকিটা জীবন কাটাইতে পারে যেন
পুত্রের শোকে পুড়ে।

সন্ধামালতী


সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             বিদ্রোহী বুলবুলের অগ্নিঝরা কাব্যের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             বিশ্বকবির ফটিকের চিরায়ত ছুটির মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             বীরবলের ছদ্মনামে লুকায়িত প্রমথের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
               শরতের নিঃসাড় নিষ্প্রাণ মহেশের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
       নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্র-জননী রোকেয়ার মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
        অনুপম ব্যক্তিত্বের মরমী কবি আব্দুল হাকিমের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
                 মহাশ্মশানের শাশ্বত মহাকবির মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             নকশী কাঁথার সূতায় আঁকা পল্লীকবির মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
           একুশই সুকান্তের দুর্মর আগ্নেয়গিরির লাভার মত

সন্ধামালতী, তুমি কেন জাগবে না
         যখন দেশের সব কটি তারা ঝরে যাচ্ছে,
         তখন একটি সন্ধামালতী কেবল দিতে
         পারে নতুনের আহবান
                 তবে কেন তুমি জাগবে না ?