Tuesday, May 31, 2016

চিত্তক্ষোভ

এখন অনেক ক্লান্ত লাগে,
কবিতার শব্দগুলো লাগে বিবর্ণ
নিজের কাছেই যেন অচেনা।

জীবনের অর্থ খুজেছি অনেক আগেই ,
ছকে ছকে মিলাতে পারি নি কখনো
প্রশ্ন করেছি, কিন্তু উত্তর অজানা।

আপন মানুষকে ভালোবেসেছি অনেক ,
ভালবাসার অর্থগুলোই তাদের কাছে ভিন্ন
মর্মার্থ ,কেউ বের করতে চায় না।

উপলব্ধি গুলো বার বার আসে ,
পরস্থিতির প্রেক্ষাপটে সেগুলো হয় শতছিন্ন
আবার যখন খুজি ,হাতরে আর পাই না।


মনের দন্ধ বার বার করা নাড়ে,
ভালবাসা নিরবে কাঁদে ,যা আজ জীর্ণ
প্রেমের ইট সুরকি হাতে কেউ আর আসে না।

বাস্তব কল্পনা গুলো স্বপ্নেই রয়ে যায় ,
পার্থিবতার রোষানলে স্বপ্নলোক হয়ে যায় ঘৃণ্য
অস্তগামী সুর্য আর চোখে সয় না।

ঘড়ির কাঁটা হটাত যেন থমকে যায় ,
আপোষ আর বিভেদ এর প্রতিযোগিতায় জীবন হয় পূর্ণ
অদ্ভুত অতৃপ্ত এ মন কি চায় আর কি পায় না। 

আমি কবি হতে চেয়েছিলাম

আমি কবি হতে চেয়েছিলাম,
অস্তগামী সুর্যের আলোয়
নদীর ধারে  ভেজা মাটিতে বসে
আকাশের বিশালতাকে বুঝতে চেয়েছিলাম,
আমি কবি হতে চেয়েছিলাম।

আবছায়া অন্ধকারে ,
মাটির প্রদীপ হাতে
নিম গাছের বেদিতে মাথা রেখে
ঈশ্হরের কথা আড়াল থেকে শুনতে চেয়েছিলাম ,
আমি কবি হতে চেয়েছিলাম।

কনকনে শীতে ,
খোলা আকাশের  নিচে শুয়ে থাকা
অনাথ শিশুটার ফুসফুসের আওয়াজে
মনুষত্বের নিশ্প্রানতাকে দেখতে চেয়েছিলাম ,
আমি কবি হতে  চেয়েছিলাম।

একাকিত্বের মায়াজালে,
দখিনা জানালায় মাথা রাখা
কিশোরীর ভাঙ্গা রিধয়ের আর্তনাদে
ভালোবাসার ভালোবাসাকে খুজতে চেয়েছিলাম,
আমি কবি হতে চেয়েছিলাম।

যোজন যোজন দুরে ,
মহাকবিদের ধূলুমাখা পথে
হারিয়ে যাওয়া কাব্যরসে
পোড়া সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হতে চেয়েছিলাম ,
আমি কবি হতে চেয়েছিলাম। 

Saturday, September 1, 2012

মনকঙ্কণ

ক্লান্ত পৃথিবী
বিষণ্ণ দিন,
ঘুমন্ত কবি
কাব্য বর্ণহীন।

নীলচে আকাশ
ক্রমশ কালো,
ঠাণ্ডা  বাতাস
ঝাপসা আলো।

শূন্য রাস্তা
একলা আমি ,
অস্থির সত্তা
হাসে অন্তর্যামী ।


গোধূলি লগণ
পথের শেষ ,
নিঃস্ব মন
বিবর্ণ অবশেষ ।

Sunday, January 1, 2012

পিতা-পুত্র


ঐ যে উঠিল দিনপতি,
কেউ জানে না খানিকপরে
ঘটাইবে কি মহাপতি।

কেউ জানে না বীর সোহরাবের
আজি হবে শেষ দিন,
পুত্র শোকে কাঁদিবে তাসমিনা
অনন্ত চিরদিন ।

আজ রঞ্জিত হবে পিতার হাত
পুত্রের রক্ত দিয়ে,
কাছে থেকেও বুজবে না সে
থাকবে শুধু চেয়ে।

বীর রুস্তম তখন হাসিয়া বলিবে
হইলো শত্রু শেষ,
ভাবিবে না সে, পিতার হাতে
পুত্র হইলো নিঃশেষ ।

অবশেষে যখন মুমূর্ষু সোহরাব
করিবে কাহিনী বর্ণনা ,
কণ্ঠ্য রুদ্ধ হয়ে যাবে রুস্তমের
দেহ খানা আর চলিবে না।

অন্তর তার আর্তনাদ করিয়া কাঁদিয়া
উঠিবে ভয়ে,
কি নিষ্ঠুর সে চোখের সামনে পুত্রের
মৃত্যু সয়ে।

প্রার্থনা করিবে এ পৃথিবী যেন কখনও
ক্ষমা করে নাক তারে,
বাকিটা জীবন কাটাইতে পারে যেন
পুত্রের শোকে পুড়ে।

সন্ধামালতী


সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             বিদ্রোহী বুলবুলের অগ্নিঝরা কাব্যের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             বিশ্বকবির ফটিকের চিরায়ত ছুটির মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             বীরবলের ছদ্মনামে লুকায়িত প্রমথের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
               শরতের নিঃসাড় নিষ্প্রাণ মহেশের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
       নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার অগ্র-জননী রোকেয়ার মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
        অনুপম ব্যক্তিত্বের মরমী কবি আব্দুল হাকিমের মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
                 মহাশ্মশানের শাশ্বত মহাকবির মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
             নকশী কাঁথার সূতায় আঁকা পল্লীকবির মত

সন্ধামালতী, তুমি কি জাগবে না
           একুশই সুকান্তের দুর্মর আগ্নেয়গিরির লাভার মত

সন্ধামালতী, তুমি কেন জাগবে না
         যখন দেশের সব কটি তারা ঝরে যাচ্ছে,
         তখন একটি সন্ধামালতী কেবল দিতে
         পারে নতুনের আহবান
                 তবে কেন তুমি জাগবে না ?

Saturday, December 31, 2011

বজ্র বীণার ঝঙ্কার


বজ্র বীণা বাজেরে
বজ্র বীণা বাজে, 
যার ঝঙ্কারে আজ শাসক শোষক
মৃত্যু ভয়ে কাঁপে,
তার দৃপ্ত সুরের তন্ত্রীতে আজ
মাদক নেশা জাগে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে।


তার ক্রুদ্ধ কণ্ঠে শোষিতরই
ক্ষুব্ধ কথা উঠে
যার গর্জনে আজ গিরিশ
পাথর ধ্বংস হয়ে উড়ে
তার চক্ষু যেন দগ্ধ হয়
অগ্নিসম জ্বলে
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে

তার বক্ষে আজ পাষাণ পাথর
খই সম হয়ে ফুটে,
তার তরবারিতে শোষকেরই
মুণ্ডু নাচন নাচে,
সে দুশ্ মনেরই কষ্ট দেখে
পাগলা হাসি হাসে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে


তার রুদ্র মূর্তি শয়তানেরই
বক্ষে মাদম তুলে,
যার শক্তি দেখে ত্রস্ত হয়ে
দৌড়ে পালায় ছোটে,  
সে শোষকেরই স্কন্ধে চড়ে
বাজায় রে ঢোল ঢোলে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে

সে তিক্ত হয়ে সিক্ত হয়
গঙ্গা সমান জলে,
তার তাণ্ডবে আজ আকাশ পাতাল
উত্তেজনায় কাঁপে,
সে বক্র-চোখে সর্প হয়ে
সর্ব দেহ দংশে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে

তার উদ্ভট সব কাণ্ডে যেন
বিজলী চমকে উঠে,
তার মত্ত হাওয়ায় শোষিতরই
কষ্ট যায় ভেসে,
তার জয়ধ্বনির রবে
হায়!খোদার আরশ ভাঙ্গে,  
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে ।

মরীচিকা

অসীম শূন্যতা থেকে
                    আলোর পথে,
অসহনীয় অজ্ঞতা ছেড়ে
                    সত্যের সাথে ,
অপরিমেয় দিগ্বলয় ফেলে  
                    তীরের পানে
রেখে যাও আমায়
                  নতুনের সনে

বৃথা আশা করি
               ভুবনেতে থেকে,
পাইনা দেখা তারি
               কষ্টের বাঁকে ,
ছন্দবদ্ধ রূপে
               অপ্রকাশিত রেখে ,
খুঁজি ফিরি আমি তারে
               প্রতি শাখে শাখে

সোনার সম্পদ ভেবে
                   আপন করি ,
হীরা মানিক ছেড়ে তাই
                  আঁকড়ে ধরি ,
অবশেষে যাই ফেলে
                 যা ছিল আমারি ,
বৃথা আশা মনে
                          যদি পরে পারি



না জানিনা জানি
                   পরে কিনা পাই ,
নিরন্তর খুঁজছি
                   যা আমি চাই ,
অবচেতন মনে
                   অন্তিম প্রয়াস ,
খুঁজে পাবই আমি
                    আমার আশ্বাস

 
কিন্তু যেন  
                নিছক সোনা ,
দেখা দিলেও পরে
                যায়না  চেনা ,
তাই মিছে হয়  
                এত দিনের এত ভাবনা ,
পিছু ফেলে ভাবি
                 ঠিক করলাম কিনা