Saturday, December 31, 2011

বজ্র বীণার ঝঙ্কার


বজ্র বীণা বাজেরে
বজ্র বীণা বাজে, 
যার ঝঙ্কারে আজ শাসক শোষক
মৃত্যু ভয়ে কাঁপে,
তার দৃপ্ত সুরের তন্ত্রীতে আজ
মাদক নেশা জাগে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে।


তার ক্রুদ্ধ কণ্ঠে শোষিতরই
ক্ষুব্ধ কথা উঠে
যার গর্জনে আজ গিরিশ
পাথর ধ্বংস হয়ে উড়ে
তার চক্ষু যেন দগ্ধ হয়
অগ্নিসম জ্বলে
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে

তার বক্ষে আজ পাষাণ পাথর
খই সম হয়ে ফুটে,
তার তরবারিতে শোষকেরই
মুণ্ডু নাচন নাচে,
সে দুশ্ মনেরই কষ্ট দেখে
পাগলা হাসি হাসে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে


তার রুদ্র মূর্তি শয়তানেরই
বক্ষে মাদম তুলে,
যার শক্তি দেখে ত্রস্ত হয়ে
দৌড়ে পালায় ছোটে,  
সে শোষকেরই স্কন্ধে চড়ে
বাজায় রে ঢোল ঢোলে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে

সে তিক্ত হয়ে সিক্ত হয়
গঙ্গা সমান জলে,
তার তাণ্ডবে আজ আকাশ পাতাল
উত্তেজনায় কাঁপে,
সে বক্র-চোখে সর্প হয়ে
সর্ব দেহ দংশে,
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে

তার উদ্ভট সব কাণ্ডে যেন
বিজলী চমকে উঠে,
তার মত্ত হাওয়ায় শোষিতরই
কষ্ট যায় ভেসে,
তার জয়ধ্বনির রবে
হায়!খোদার আরশ ভাঙ্গে,  
ঐ বজ্র বীণা বাজেরে
ঐ বজ্র বীণা বাজে ।

মরীচিকা

অসীম শূন্যতা থেকে
                    আলোর পথে,
অসহনীয় অজ্ঞতা ছেড়ে
                    সত্যের সাথে ,
অপরিমেয় দিগ্বলয় ফেলে  
                    তীরের পানে
রেখে যাও আমায়
                  নতুনের সনে

বৃথা আশা করি
               ভুবনেতে থেকে,
পাইনা দেখা তারি
               কষ্টের বাঁকে ,
ছন্দবদ্ধ রূপে
               অপ্রকাশিত রেখে ,
খুঁজি ফিরি আমি তারে
               প্রতি শাখে শাখে

সোনার সম্পদ ভেবে
                   আপন করি ,
হীরা মানিক ছেড়ে তাই
                  আঁকড়ে ধরি ,
অবশেষে যাই ফেলে
                 যা ছিল আমারি ,
বৃথা আশা মনে
                          যদি পরে পারি



না জানিনা জানি
                   পরে কিনা পাই ,
নিরন্তর খুঁজছি
                   যা আমি চাই ,
অবচেতন মনে
                   অন্তিম প্রয়াস ,
খুঁজে পাবই আমি
                    আমার আশ্বাস

 
কিন্তু যেন  
                নিছক সোনা ,
দেখা দিলেও পরে
                যায়না  চেনা ,
তাই মিছে হয়  
                এত দিনের এত ভাবনা ,
পিছু ফেলে ভাবি
                 ঠিক করলাম কিনা



মৃত্যুর মুহূর্ত


যেদিন তোমার ধরা থেকে হবে দেহপাত,
সে দিন থাকবে না তোমার পূজনীয় পিতা
থাকবে না তোমার দেহে তোমার মাতার বাস
দেখবে না তুমি ক্রন্দছলে তোমার ছেলের বেশ,
তোমার উপরেই পড়ে থাকা তোমার তনয়ার কেশ
নিখিল বিশ্বে থাকবে না কেউ তোমার জন্য রয়ে,
তুমি থাকবে সবার উপরে ঊর্ধ্বলোকে বসে, আর
তোমার বাগানের ফুল ঝরে যাবে ক্ষণপ্রভা দিয়ে;
দেবলোক হতে তোমার নিমিত্ত আসবে ঐশ্বরীয় বানী,
তুমি বিনা সাড়া দিবে, চারপাশের নিশীথ রজনী
যে সমীরণ সে দিন প্রবাহিত হবে থাকবে না তাতে গতি ,
ফুটবে না তোমার হাতে লাগানো সেই রজনীগন্ধার কলি
নিভে যাবে সেদিন তোমার ধরণীর শত শত আলো,
তোমায় গ্রাস করবে সাড়ে তিন হাতের গুপ্ত গুহের কালো
তোমার নয়ন ভিজে যাবে সেদিন সিন্ধু সমান জলে ,
তোমার হ্রদয়ের অগ্নিক্ষরা বুঝবে না কেউ ভুলে
সেদিন এর পর যেদিন আসবে তুমি ধীরে ধীরে যাবে চলে
তোমার কথা থাকবে না মনে সেই দুদিনের পরে।

পরিণতি


আসুন, আসুন, দারগা-বাবু দেখুন লাশটাকে
কে বলেছে মেয়ে আমার খুন হয়েছে দিবালোকে ?
আধটা ঘণ্টা সইতে না পেরে সাপের বিষের জ্বালা
মেয়ে আমার গত হয়েছে ছেড়ে ধরণির মালা
‘ওসব মিছে কথা পরে শুনবো,আগে নিয়ে যাব লাশ টা
শুনেছি আমি, তোমার শত্রুর হাতে মরেছে অবলা মেয়েটা’
হাত-পায়ে ধরি আহাজারি করি তবু গলল না কসাই মন
হে খোদা, মোরে সাহায্য কর দেখাও তোমার কীর্তন
অবশেষে খবর এলো দিতে পারলে হাজার কড়ি,
মেয়ে আমার ফিরে পাব মর্গ হইতে ছাড়ি
ভিটামাটি জমি যা ছিল পরে দিলাম বেচে সব,
তবু যে বাপু হয় না মিলে যা চেয়েছে দারগা রব
অতঃপর পায়ে ধরিয়া সাহায্য পেলাম দিল এ গাঁয়ের জমিদার,
খোদা দয়াময়ের রহ মতে যেন সব মিলে হল এক হাজার
টাকার বিনিময়ে লাশ নিয়ে এসে কবর দিলাম মাটিতে
দু নয়নের জলে ভেসে গেল বুক ,মেয়ের কথা স্মরণেতে,
দু হাত তুলে প্রার্থনা করিলাম ,হে খোদা দয়াময়
আমার মেয়েকে যে কষ্ট দিলো ,সে কষ্ট যেন সে সয়।


এসবের পর দিন চলে গেল ,ঘুরলো কত ঘটনার চাকা
আমিও ভিটামাটি ছেড়ে ছন্ন ছাড়া হয়ে ঘুরি ফিরি সদা একা
একদিন শুনি এ গ্রামেই হচ্ছিল দারগা মেয়ের বিয়ে ,
বিয়ের পিরিতে বসেই নাকি,বিপাক হল মেয়েকে নিয়ে
কি হটাত অসুখে শয্যা নিলো কচি সেই মেয়ে খানি,
সেই শয্যায় শেষ হল জীবন ,গ্রহণ হল না পাণি
এ সবের পর দারগা বাবু হলেন দিশাহারা
বুঝলেন এ কার অভিশাপে অঙ্গার হলেন পুরা,
সেদিন থেকে লোক লাগালেন তিনি মোরে খুঁজতে
আমার খোজ পেয়ে স্বয়ং দারগা-বাবু এলেন নিতে,
পায়ে ধরিয়া ক্ষমা চাহিলেন ,কহিলেন কত কথা,
আমি কহিলাম “ছি ছিঃ এ কি করেন দিয়েন না মোরে ব্যথা
যে দোষে আপনি দুষ্ট হইয়াছেন পেয়েছেন তার ফল
এত কিছুর পরেও ভেসে উঠে মনে, মোর মেয়ের চোখের জল।

নবীনের শপথ


হে নবীন
     তুমি হলে নতুন দিনের যাত্রী,
     তুমি পারি দিবে অমাবস্যার অন্ধকারে ঢাকা
                      ভয়ঙ্কর সব রাত্রি

হে নবীন
     তুমি হলে নতুন দিনের সৈন্য,
     তুমি ঘুচিয়ে দেবে আবহমান কালের
                     দু: বেদনা দৈন্য

হে নবীন
     তুমি হলে সোনালী দিনের সূর্য,
     তুমিই পারো অন্যায়ের প্রতিবাদ করে
                  গড়ে উঠাতে রণ-তুর্য

হে নবীন
     তুমি হলে আগামী দিনের মুক্তি,
     তুমিই দিতে পারো দুর্বল কে
                অধিকার আদায়ের শক্তি

হে নবীন
     তুমিই হলে নতুন দিনের বন্ধু
     তুমিই দূর করতে পার দারিদ্র্যতার
                    বিষাদ রূপ সিন্ধু
হে নবীন
     তুমি হলে আগামী দিনের হাতিয়ার
     তোমার দ্বারাই তিরী হবে দেশ মাতৃকার
                 নব নব সব আবিষ্কার
হে নবীন
     তুমি হলে নতুন দিনের বৃক্ষ
     তোমার ছায়ায় প্রশান্ত হবে
                 দ্বীন ,দরিদ্র আর বৃদ্ধ
হে নবীন
     তুমিই হলে নতুন দিনের সেতু,
     তোমার হাত ধরেই সব জয় হবে
              গ্রহ ,নক্ষত্র আর ধূমকেতু
হে নবীন
        তুমি হলে আগামী দিনের মত বিস্তৃত,
        তোমার দুচোখের দৃষ্টি পর্যন্ত
                হবে মহাবিশ্বের সীমান্ত

হে নবীন
        তুমি হবে নতুন দিনের কুল
        তুমিই হবে শত সহস্র পথহারাদের
                    পথ ফিরাবার কূল

হে নবীন
        তুমি হবে নতুন দিনের অভিধান
        তোমার মাঝেই লেখা থাকবে দুঃখ থেকে ফিরিয়ে আনার
                              সুখের দিনের জয়গান
হে নবীন
        তুমি হলে নতুন দিনের হিমালয়
        তুমি পারবে রক্ষণশীলতার বাঁধ ভেঙ্গে ডেকে আনতে
                                সত্যের আলোয়

হে নবীন
        তুমি হলে নতুন দিনের উত্তাপ,
        তুমিই পারবে ছাই করতে ঘৃন্যকৃতির
                          নর পুরার মত অভিশাপ

হে নবীন
        তুমি হবে আগামী দিনের পাখি
        তোমার উড়ায় উদ্দীপ্ত হবে শতসহস্র
                            নিযুত দীপ্তিময় আঁখি

হে নবীন
        তুমি হবে নতুন দিনের উত্তরণ,
        তোমার মাঝে বায়ান্ন ,বাষট্টি আর একাত্তরের
                         সেই রক্তাক্তময় আন্দোলন

হে নবীন
        তুমি হবে নতুন দিনের জাফরান
        তোমার গন্ধেই আপ্লুত হবে
                নির্ঘুমতার অন্ধকারে ঢাকা সব নিষ্প্রাণ

হে নবীন
         তুমি হবে আগামী দিনের ভাষ্যকার,
         তোমার কণ্ঠেই প্রাণ স্পন্দিত হবে
                     আর্ত মানুষের হাহাকার

হে নবীন
      তুমি হলে নতুন দিনের দুর্গ,
      তোমার মধ্যে রক্ষিত থাকবে বীরপ্রতীকের অম্লানে আকা
              সেই সব ব্যক্তিবর্গ

হে নবীন
      তুমি হলে আগামী দিনের প্রদীপ,
      তোমার আলোয় আলোকিত হবে
             আলোহীন সব দ্বীপ

হে নবীন
      তুমি হবে নতুন দিনের প্রতিকৃতি,
      তুমিই পারবে মুছে দিতে চিরতরে
              অসত্য,অন্যায় আর দুষ্কৃতি

হে নবীন
      তুমি হবে আগামী দিনের তারুণ্য,
      তোমার চঞ্চলতায় মুখর হয়ে উঠবে
                      অন্ধকার-ছন্ন অরণ্য

হে নবীন
      তুমি,তুমিই হবে নতুন দিনের আলপনা,
      তোমার কাজের সাজে জ্যোতির্ময় হবে
                     বাস্তবতার আলপনা