Saturday, December 31, 2011

যা আমি নই


আমি এক তরুণ যোদ্ধার শুকিয়ে যাওয়া রক্তমাখা কালো ক্ষত,
আমি কোন শ্রমিক পিতার শুকিয়ে যাওয়া ঘামের মত।

আমি হয়ত এক বৃদ্ধ দাদুর লাঠির নিচের জড়ানো রাবার,
নয়তো আমি কোন বৃদ্ধার মলিন শাড়ীর শুভ্র পাড়।

আমি কোন আল্লাহ ভীরু নামাযীর কপালের কালো দাগ,
হয়তো বা আমি ইবলিসের অট্টহাসির বিশ্রী দাঁত ।

নতুবা কোন অভাবী মায়ের কেড়ে নেয়া শীতল হাসি,
নতুবা কোন ষোড়শী মেয়ের নষ্ট জীবনের গলার ফাঁসি।

আমি কোন নেশাগ্রস্ত যুবকের ঘুমহীন লাল টক টকে চোখ,
নতুবা কোন বুভুক্ষু শিশুর ক্ষুধার্ত হা করা মুখ ।

হয়তো বা আমি কোন আসামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের অসমাপ্ত সময়,
নতুবা কোন সর্বগ্রাসী বন্যায় নিঃস্ব হওয়া পরিবারের অপরিমেয় ক্ষয়।

হয়তো বা আমি কোন শতবর্ষের বটবৃক্ষের চোখে অমলিন দৃশ্যপট,
নতুবা কোন জলহারা নদীর বিস্তৃত শুকনো তট।

আমি ,আমিই আমার অকল্যাণের শত ছেড়া চিহ্ন
হয়ত বা তাই আজ আমি আপন মাতৃ-সূতা ছিন্ন।

চেতনার খোঁজে


অজ্ঞানতার অন্ধকারে যখন সারা ধরণী নিষ্প্রভ,
অদ্ভুত সব বেড়াজালে মানুষ যখন উদ্বেলি,
সত্যকে উদ্ঘাটন করতে মানুষ যখন স্তম্ভিত,
তখন এ ছায়া-লোকের কলঙ্ক ঢাক তে কে আসবে এগিয়ে,
কে আসবে নির্ভীকতার তুরঙ্গ চেপে সব বাধা পেরিয়,
সব সুখ কে বিসর্জন দিয়ে নতুন সুখের খোজ,
অগ্নিশিখার তরবারি হাতে প্রাণময়তা নিয়ে।

সে কি পারবে নিভৃতে গড়ে উঠা মিথ্যার প্রাচীর ভেঙ্গে দিতে?  
সঞ্চারিত করতে মঙ্গলের গর্ভধারিণী শক্তিকে,
সে কি জাগাতে পারবে দেব লোকের সব দেবকে?
তবে সে যেন আবির্ভূত হয় এই কলঙ্কিত পৃথিবীতে,
তার আগমনে যেন চৈতন্য হয় কুয়াশা-ছন্ন মনুষ্যদিগের,
তার ভয়ে যেন ভীতি হয় ভীতি-হীন সব কাপুরুষের,
তবে সেই যেন থাকে এই নভ: এর নব চেতনা রূপে।

কণ্ঠস্বর


আমি এক রক্তঝরা গোলাপ,
আমার কাঁটার অগ্রভাগে জ্বলন্ত উত্তাপ;
যার তাপে পুড়ে যাবে ধরণীর যত শত পাপ।

আমার শিরায় শিরায় থাকবে শোষিতেরই রক্ত,
যার লালিমা দেখে শোষকের চোয়াল হবে শক্ত,
সে তার অন্তিম পরিণতি থেকে হবে না মুক্ত।

আমার পাতা থেকে প্রতিধ্বনিত হবে আর্তদের আর্ত চিৎকার,
আমি শান্ত হব তাদের সুখ দেখে আবার;
যখন পরবে চারদিকে তাদের জয়ধ্বনির জয়কার।

আমার বুক ভেসে উঠে যখন দেখি আমারই পায়ের গোঁড়ায়
শত সহস্র নিষ্পাপ মুখ কাঁদে আর শুধু চায়,
অবলা আমি পূরণ করতে পারি নাক তাদের অভিপ্রায়।

তবু আমার কাছে তারা পাবে জেগে উঠার ক্ষমতা ,
পাবে যতটুকু ছিল মোর ততটুকু হৃদ্বতা্, 
যার মাঝে খুঁজে পাবে তারা তাদেরি উৎকর্ষতা।

এক মৃত্যুর পূর্বে


ঘড়ি চলছে টিক টিক
হৃৎপিণ্ডের শব্দটাও হয়তো;
আগের মতই ঠিক।

হয়তো একটু পরে,
অথবা আরও কয়েকদিন,
তারপর চলে যাব ওপারে।

এ মরণটা জানা ছিল;
কিন্তু , তবু যেন মন সায় দিচ্ছেনা
চাচ্ছে না লড়াই ছাড়া ধুঁকে ধুঁকে
পিশাচগুলোর হাতে মরতে।

ওহ ! আর একটু যদি সজাগ হতাম
শত্রুর ভয়ে যদি পিছিয়ে যেতাম
তবে হয়তো বাঁচতে পারতাম।

কই বেঁচে-তো এখনো রয়েছি,
এখন তো প্রাণ আছে
আছে লড়াই করার শক্তি।
বা হাতের দিকে তাকালে ভয় করে
নর পশুগুলো একটা একটা করে নখ।

ওহ!আর ভাবতে পারি না
এর চেয়ে যদি মেরে ফেলত,
সেও ভালো ছিল
হয়তো দেখা করা যেতো
যাদের হারিয়েছি তাদের সাথে
মিলিত হতাম আবার এক সাথে।

চোখে ঝাপসা হয়ে উঠে
কি অপূর্ব ছিল ,
               সেই দিনগুলি
শাহাদাতের কবিতা শোনা
শোন তে শোনতে হারিয়ে যেতাম
বর্তমান থেকে অতীতে,
অতীত থেকে ভবিষ্যতে।

কই কিছুদিন আগেও তো এক সাথে ছিলাম
দুই বন্ধু এক থালায় ভাত খেতাম
একই সেক্টরে পাশাপাশি লড়তাম,
সেদিন কে জানতো  
আজরাইল ছিল তার পাছে
বক্ষটাকে বিদীর্ণ করে 
নিয়ে গেলো মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে।

ধাম করে শব্দ হল দরজায়
চমকে উঠে সামনে তাকাই
ও-ওইতো আসছে  
যাক বাঁচা গেলো
আর হয়তো বেশিক্ষণ বাঁচব না,
তবু-তো যন্ত্রণা থেকে বাঁচলাম
রক্ষা পাবো অমানুষিক নির্যাতন থেকে
এই তো আমার জন্য যথেষ্ট।

গুলির শব্দ!
হঠাৎ যেন মনে হল
পৃথিবীর সমস্ত ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেছে,
ইচ্ছে করছে যেন আবার শুনতে
সেই শব্দ
      টিক টিক টিক।

অলঙ্ঘনীয়


সন্ধ্যা নামে যখন ক্লান্ত হয় পৃথিবী,
শ্রান্ত হয়ে আসে
                   জীবনের সব দাবি।

বিষাদ নামে যখন ভেঙ্গে যায় মন,
তিক্ত হয়ে আসে
                   বেঁচে থাকার সব আয়োজন।

পরাজয় আসে যখন কমে যায় বিশ্বাস,
বিদ্রূপগুলো পুরিয়ে দায়
                    আবার জয়ের আশ্বাস।

বিপদ আসে যখন আসে তখন ভীতি,
কেঁদে উঠে মনে করিয়ে দেয়
                      অতীতের সব স্মৃতি ।

চোখ মুদে আসে যখন থেমে যায় সময়
মৃত্যু দ্বারে এসে ডাকে
                           চলো স্বর্গময় ।

অবিস্মৃতি


লেখা হয়ে থাকবে আমৃত্যু এক স্মরণাতীত দিন
যতকাল যাবে মনের রুদ্ধ দুয়ারে বাজবে
     তারই উন্মাদনার বীণ, 
সুর খুঁজে পাব হারানো গানের সেই লহরীতে
যার ঝঙ্কারে স্পন্দিত হবে অন্তর
                  ফিরে যাব অতীতে,
নীলাচলের মত জেগে রবে কল্পনার জাদুকাঠি  
তার মর্মস্পর্শী ছোঁয়ায় হয়তো প্রাণ ময় হবে
                          স্মৃতির বাটী।
স্মরণে রবে যুগ থেকে যুগান্তরে, বন্ধনহীন স্রোতের মত
আর রাখা থাকবে শুধু কিছু আবেগ
                     চঞ্চলতার মুহূর্ত।