ঘড়ি চলছে টিক টিক
হৃৎপিণ্ডের শব্দটাও হয়তো;
আগের মতই ঠিক।
হয়তো একটু পরে,
অথবা আরও কয়েকদিন,
তারপর চলে যাব ওপারে।
এ মরণটা জানা ছিল;
কিন্তু , তবু যেন মন সায় দিচ্ছেনা
চাচ্ছে না লড়াই ছাড়া ধুঁকে ধুঁকে
পিশাচগুলোর হাতে মরতে।
ওহ ! আর একটু যদি সজাগ হতাম
শত্রুর ভয়ে যদি পিছিয়ে যেতাম
তবে হয়তো বাঁচতে পারতাম।
কই বেঁচে-তো এখনো রয়েছি,
এখন তো প্রাণ আছে
আছে লড়াই করার শক্তি।
বা হাতের দিকে তাকালে ভয় করে
নর পশুগুলো একটা একটা করে নখ।
ওহ!আর ভাবতে পারি না
এর চেয়ে যদি মেরে ফেলত,
সেও ভালো ছিল
হয়তো দেখা করা যেতো
যাদের হারিয়েছি তাদের সাথে
মিলিত হতাম আবার এক সাথে।
চোখে ঝাপসা হয়ে উঠে
কি অপূর্ব ছিল ,
সেই দিনগুলি
শাহাদাতের কবিতা শোনা
শোন তে শোনতে হারিয়ে যেতাম
বর্তমান থেকে অতীতে,
অতীত থেকে ভবিষ্যতে।
কই কিছুদিন আগেও তো এক সাথে ছিলাম
দুই বন্ধু এক থালায় ভাত খেতাম
একই সেক্টরে পাশাপাশি লড়তাম,
সেদিন কে জানতো
আজরাইল ছিল তার পাছে
বক্ষটাকে বিদীর্ণ করে
নিয়ে গেলো মৃত্যুঞ্জয়ের কাছে।
ধাম করে শব্দ হল দরজায়
চমকে উঠে সামনে তাকাই
ও-ওইতো আসছে
যাক বাঁচা গেলো
আর হয়তো বেশিক্ষণ বাঁচব না,
তবু-তো যন্ত্রণা থেকে বাঁচলাম
রক্ষা পাবো অমানুষিক নির্যাতন থেকে
এই তো আমার জন্য যথেষ্ট।
গুলির শব্দ!
হঠাৎ যেন মনে হল
পৃথিবীর সমস্ত ঘড়ি বন্ধ হয়ে গেছে,
ইচ্ছে করছে যেন আবার শুনতে
সেই শব্দ
টিক টিক টিক।
No comments:
Post a Comment